১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার

ইসলাম অবমাননা বন্ধ করতে ব্যর্থ সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই : আল্লামা কাসেমী

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা আল্লাহর রাসূলের শানে বেয়াদবী করেছে, এই দেশের তাওহিদী জনতা সেটা কোন অবস্থাতেই মেনে নিবে না। এই দেশের জনগণ আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও ঈমান-আক্বিদার রক্ষার জন্য শহীদ হওয়ার জন্য তৈরি আছে।

ঈমান-আক্বিদাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ (২২ অক্টোবর) মঙ্গলবার বাদ যোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এসব কথা বলেন। প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর হেফাজত। এতে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী ও তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে আমি প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি যে, কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাশ এবং আইনের নিরপেক্ষ ও যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এ আইন পাশা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবেই চলবে। পাশাপাশি আমি এটাও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। আমরা ভাঙচুর ও জ্বালাও-পোড়াওতে বিশ্বাসী না। সুতরাং কেউ উলামায়ে কেরামের আন্দোলন নিয়ে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা করবেন না।

তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে বহু ধর্ম-বর্ণের মানুষ সামাজিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতির সাথে একসাথে বসবাস করে থাকে। কোন মুসলমান ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্মে বাধা দেয় না। এটাই ইসলামের শিক্ষা। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয়, কতিপয় হিন্দু ধর্মের লোক গত কয়েক বছর থেকে সময়ে সময়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও কটূক্তি করে বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। আমরা এটা কখনো হতে দেব না। ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে যে সরকার ইসলাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সা.)এর ইজ্জত এবং ইসলাম অবমাননা বন্ধ করতে ব্যর্থ হবে, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

আল্লামা কাসেমী বলেন, সরকারের প্রতি আমি স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছি, ভোলায় তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে অবিলম্বে সেই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রেফতারকৃতদেরকে মুক্তি দিতে হবে। ভোলায় গুলি বর্ষণ করে হতাকা- ও হতাহতের সাথে যারা জড়িত নিবীড়-নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে গ্রেফতার করে অনতিবিলম্বে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে। অন্যথায় উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা ঘরে ফিরে যাবে না। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি পুরণে বাধ্য করা হবে।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমীর পরিচালনায় অনুষ্ঠি সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- মাওলানা মাহফুজুল হক, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, মাওলানা নূরুল ইসলাম, ড. ঈসা শাহেদী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা শফিক উদ্দীন, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা ফায়সাল আহমদ, মাওলানা তোফাজ্জল হক, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা এবিএম শরীফুল্লাহ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা এডভোকেট আব্দুর রাকিব, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, মাওলানা শওকত আমীন, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আব্দুল গাফফার ছয়গরী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ঢাকুবী, মাওলানা নূর মোহাম্মদ কাসেমী, মাওলানা সাইফুদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ।

-ইনসাফ

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন