২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

১০ হাজার দিয়ে শুরু, এখন ১৫ লাখ, শুনুন সফলতার গল্প

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ালেখা বন্ধের পর জীবিকার তাগিদে ডিশের ব্যবসা থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত, মুরগীর খামার, বাদ দেননি কিছুই। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা কিছুতেই আসছিল না। এমন সময় শখের বশে ছাগল পালন করে বাজিমাত করেছেন হাকিমপুরের শিবলী নোমান। তার খামারে

মাত্র ২টা ছাগল দিয়ে শুরু করে আজ চার প্রজাতির ছোট-বড় মিলে ১০০ ছাগল।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাসুদেবপুর মহল্লার মৃত আলহাজ আব্দুর জব্বারের ছেলে শিবলী নোমান তার বাড়ীর পাশে গড়ে তুলেছেন এ ছাগলের খামার। শখের বসে ৩ বছর পূর্বে দুটি ছাগল ক্রয় করে লালন পালনের পর অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ছাগলের খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। আজ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখন তার খামারে দেশী ও বিদেশী প্রজাতির মোট ১০০টি ছাগল রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।

দেশের বাজারে ছাগলের চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতে ব্যপক চাহিদা রয়েছে। তাই ছাগল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব। সুযোগ পেলে শিবলী নোমানও এমনই আশা করছেন।

শিবলী নোমান জানান, ২০০১ সালে এসএসসি পাশের পর নানা প্রতিবন্ধকতায় বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। জীবিকার তাগিদে নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা কিছুতেই আসছিল না। এরপরে ২০১৬ সালে শখের বসে ১০ হাজার টাকায় দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন করেন। এরপর এক বছরের মধ্যে ছাগল দু’টি ছয় মাস পরপর দুটি করে মোট ৮টি বাচ্চা দেয়। পরে ওই ছাগলগুলি বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর উপজেলা প্রাণী সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে একটি করে যমুনাপাড়ী, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল ক্রয় করে মাচং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলেন। বাড়ীর পাশের পতিত জায়গায় আবাদ করেন হাইড্রোপ্রোনিক (মাটি ছাড়া ট্রেতে আবাদ করা ঘাস) ঘাস। এই ঘাস ছাগলের জন্য উৎকৃষ্টমানের খাবার।

তিনি আরও জানান, এই একটি ছাগল বছরে দুই বার প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ বালাইও কম। বছরে একবার পিপিআর, গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই কোন প্রকার ওষুধ লাগে না।

তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। সেখানে একটি বিদেশি গাভী পালন করলে প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খায়। সেখানে ৩০০ টাকা হলে প্রতিদিন ৩০টি ছাগলকে খাওয়ানো যায়। ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা ও ছোলা বুটের গুড়ো সেই সাথে সয়াবিন ও খড়ের ছানি। যা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন