২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, রবিবার

রাজনীতির শূন্যতার জন্য জাতীয় পার্টি দায়ী: রুমিন ফারহানা

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রাজনীতিতে একধরনের চাপা অস্থিরতা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বেশ কয়েক বছর ধরে। আজকে রাজনীতির শূন্যতার পেছনে জাতীয় পার্টির একটা বিরাট দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনে যখন বিএনপি বলল তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না। তখন কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছিল। তখন আমরা দেখেছি জাতীয় পার্টি কখনো বলেছে নির্বাচনে যাবে আবার কখনো বলেছে যাবে না। তখন দেখেছি এরশাদকে সামরিক হাসপাতাপলে ভর্তি করেছে। সেখানে তাকে গলফ খেলতে দেখেছি একপর্যায় তাকে দেখেছি নির্বাচনে আসতে। একঅর্থে নির্বাচনে আসতে বাধ্যই হয়েছেন। কারণ পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের একধরনের চাপ তার ওপরে ছিল বলে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, এরশাদ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তার দলের তিনজন মন্ত্রিপরিষোধে যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েছেন। একপর্যায়ে আমি তার এবং রওশন এরশাদ দু’জনের কণ্ঠেই অসহায়ত্ত লক্ষ্য করেছি। এরশাদের মামলা কোনদিকে যাবে এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রওশন এরশাদকে বলতে শুনেছি যে, প্রধানমন্ত্রী আমাদের এই ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থাৎ সমস্ত রাষ্ট্রটা যে একদলীয়, রাজনীতিটা যে একদল কেন্দ্রিক এবং বলতে গেলে একব্যক্তি কেন্দ্রিকের দিকে যাচ্ছিল সেটাতো সেই সময় আমরা বুঝতে পেরেছি। ধাপে ধাপে এই অবস্থার আরও অবনতি আমরা লক্ষ্য করেছি।

তিনি বলেন, আমরা যেকোন অপরাধের জন্য প্রথমে বিচার চাই। কিন্তু বিচার চাইতে হবে কেনো? তারপর আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। যখন আমরা একটা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে চলে যাই, তখন কিন্তু সেটা স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যথাযথ কাজ সম্পূর্ণ করতে পারছেন না। আমরা দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি নাই, কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি নাই।

রুমিন ফারহানা বলেন, আজকে (গত বুধবার) টিআইবি রিপোর্ট বলছে যে কোন অন্যায় অবিচারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন না কোন ভাবে জড়িত। এটাতো একাটা রাষ্ট্রের জন্য অত্যান্ত দুঃখজনক। কিছুতেই রাজনীতিবিদরা এই দায় থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। বিশেষ করে যেই রাজনৈতিক দল গত দশ বছর ধরে বিনা ভোটে ক্ষমতায় আছে সেই দলের একটা বিরাট দায়িত্ব এখানে বর্তায়। বাংলাদেশের ৪৮ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে ১৯ বছর ছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। তারপরে আওয়ামী লীগের যেই মিত্রশক্তি জাতীয় পার্টি তারা ক্ষমতায় ছিমতায় ছিল ১০ বছর। তারপরও যখন এই কথা শুনতে হয় দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা। গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে যেই ভ্রাতৃত্ববোধ সেটার চূড়ান্ত রুপ আমরা দেখেছি। অনেকে বিরোধী দল লেথার সময় প্রশ্ন বোদক চিহ্ন দিয়ে থাকে। আবার অনেকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নব্বই দশকের পরবর্তী সময় গণতান্ত্রিক যেই স্বপ্নটা দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নটা পূরণ করতে পারিনি। বিশেষ করে গত দশ বছরে জবাবদীহিতাহীন সরকার থাকায় যেই বীভৎসতা লক্ষ্য করেছি। সেইভাবে কিন্তু অতীতে আমরা লক্ষ্য করিনি। এরপরে আমরা দেখেছি প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে কিভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো তদন্ত ছাড়া, কোনো বিচার ছাড়া। আমরা দেখছি মানুষ হারিয়ে যায় যেই দু-একজন ফিরে আসে তারা কিন্তু আর মুখ খোলে না। অর্থাৎ একটা চাপা দমবন্ধকর ভীতিকর অবস্থা চারপাশে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছুদিন পরপর আমার ফেসবুক হ্যাক হয়ে যায়। কারণ আমার যেই কথাগুলো থাকে, যেই লেখাগুলো থাকে ফেসবুকে সেটা হয়তো সরকারের ভালো লাগে না। আমি যখন জিডি করতে যাই আমার সেই জিডি নেয় না। আমার ফেসবুক হ্যাক হতে পারে আমি এটাও বলছি না যে সরকারের সমর্থকরা হ্যাক করেছে। কারণ সেটা আমি কিভাবে বলব আমিতো জানি না। কিন্তু আমার জিডিটা তো নেবে, আমার জিডিটা যখন নেয় না। আমি একজন আইনজীবী, বিরোধী দলের কর্মী ও সংসদ সদস্য এতো কিছু থাকার পরও আইনশশৃঙ্খলা বাহিনী সামান্য একটা জিডি নেয় না, তখন বোঝা যায় যে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা তাহলে কেমন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন