২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, রবিবার

ভারতীয়রা বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে :স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান!

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়রা প্রতি বছর ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা) করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ অর্থ কি ভারতে বৈধপথে যায়? নাকি হুন্ডিতে? সেটি আমার জানার বিষয় নয়। এজন্য রয়েছে কর্তৃপক্ষ, তারা তা দেখবেন। গতকাল ৯ জুলাই সোমবার বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের ৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী আকরাম বলেন, আমি অনেকবার প্রস্তাব দিযেছি যে, ভারতীয়দের নিয়োগের প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশে এমন দক্ষ কর্মী তৈরী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তাহলে এই ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে যাবে না। বাংলাদেশেই থাকতো। তিনি বলেন, অল্প কিছু লোভী লোকের কবলে দেশের অর্থনৈতিক সেক্টর। তাদের যে কত টাকা দরকার তা নিজেরা নির্ধারণেও সক্ষম নন।

আরো চাই, আরো চাই। এমন কিছু লোকের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে লাসভেগাসে ৩ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ১০১তম আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাবের বার্ষিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাজী আকরাম আন্তর্জাতিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

১২০ দেশের ২০ হাজার লায়ন এতে অংশ নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে নিজের বিজয়ী হবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মেলন হলেও ভারতের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ দেখেছি।

পাকিস্তানকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসেবে বলাবলি হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশকে সকলেই একবাক্যে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

রাহুল গান্ধীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি কাশ্মীরে

কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী ও দেশটির বিরোধী দলগুলোর আরও ১১ নেতাকে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শনিবার রাহুল গান্ধী শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তাদের সেখান থেকেই দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিরোধী নেতাদের নিয়ে সকালে রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে অধিকৃত কাশ্মীরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।

পরে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

কাশ্মীর সফরে যাওয়া সর্বদলীয় প্রতিনিধির মধ্যে কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে’র সদস্যরা রয়েছেন।

সফরে রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ ও আনন্দ শর্মাও গিয়েছিলেন। এর আগে গুলাম নবী আজাদ দুইবার কাশ্মীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য এবং জনসংযোগ অধিদফতর এক টুইটে জানায়, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও হামলা থেকে যখন সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে রক্ষায় চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক নেতারা সেখানে সফরে গেলে অন্যান্য লোকজন অসুবিধায় পড়ে যাবেন।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর রাহুল বলেছিলেন, তিনি সেখানে সংঘর্ষ এবং বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাচ্ছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের গভর্নর সত্য পাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

গভর্নরের আমন্ত্রণ পাওয়ার দুই দিন পর রাহুল তা গ্রহণ করেন। কিন্তু ততক্ষণে গভর্নর তার মত বদলে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন এবং রাহুলের ভ্রমণের উপর কিছু শর্ত আরোপ করে বিবৃতি দেন।

গভর্নর মালিক বিবৃতিতে বলেন, রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের আনতে চেয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছেন। যা আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এখানে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়তে পারেন।

শনিবার সকালে গুলাম নবী আজাদ বলেন, আমরা সব দায়িত্বশীল দল ও তাদের নেতারা কোনো আইন ভাঙতে যাচ্ছি না। জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গত ২০ দিন ধরে সেখানে অচলাবস্থা চলছে। সরকার বলছে-পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু তারা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না।

এই কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এতে কোনো বৈপরীত্য নেই? যদি কাশ্মীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবে আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন