১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার

জোর করে ভিডিও ডিলেট করানোর অভিযোগ উঠেছে শোভনের বিরুদ্ধে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের দুই নেতার মারামারির ভিডিও ধারন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির এক সদস্যকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার ধারণ করা ভিডিওটি জোরপূর্বক ডিলেট করানো হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এই ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বিরুদ্ধে এ অভিযাগ উঠে। ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকের নাম নুর হোসেন ইমন। তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, ঘটনাস্থালে তাকে কেউ চিনেনা। তাকে কেউ যদি মারধর করে সেজন্য তাকে আমার গাড়িতে উঠিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু তাকে জোর করা হয়নি। তার মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলিট করার বিষয়টি জানিনা।

অভিযুক্ত সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমি তাকে গাড়িতে উঠাই নাই। তবে তাকে যে গাড়িতে উঠানো হয়েছে তা শোভন ভাই জানেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবির রায়হান বলেন, প্রাথমিকভাবে শোভনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটির প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ধরণের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমরা ছাত্রলীগকে ক্ষমা চাইতে বলেছি। যদি তারা আনুষ্ঠানকিভাবে ক্ষমা না চান, তবে সমিতির সভা ডেকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।

জানা যায়, দুপুরে রেজোয়ানুল হক শোভন মধুর ক্যান্টিনে আসেন। পরে যাওয়ার সময় তাঁর সাথে গাড়িতে ওঠে ছাত্রলীগের অন্য দুই সিনিয়র নেতা জহির এবং আল নাহিয়ান খান জয়সহ আরও কয়েকজন। এদিকে গাড়িতে না উঠতে পেরে ঝামেলা করা শুরু করে বিদ্যুত। ফলে একপর্যায়ে শোভন অন্যদেরও গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। এটাকে কেন্দ্র করে জহির এবং বিদ্যুতের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দুজন দুজনকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে তেড়ে যান।

এসময় ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত ইনকিলাবের রিপোর্টারের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয় আরেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এসময় এ রিপোর্টারকে জোর করে শোভনের গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

ভুক্তোভূগী রিপোর্টার ইমন সাংবাদিকদের জানান, মধুর ক্যান্টিনের বাইরে পাব্লিক প্লেসে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসময় সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে আমার মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন আমাকে জোর করে গাড়িতে উঠায়। গাড়িতে উঠিয়ে জোর করে ভিডিও ডিলিট করিয়ে নেন। পরে অনুরোধ করলে হাতিরপুল বাজারের কাছে আমাকে গাড়ি থেকে নামতে দেয়া হয়।

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন