২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

‘তোমাকে ছাড়া আমি বিলীন হয়ে যেতাম’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

‘আমি প্রতিদিন আরও বেশি করে তোমার প্রেমে পড়ি। তুমি আমার জীবনে ঘটা সবচেয়ে ভালো ঘটনা।’ মার্কিন সংগীত তারকা জাস্টিন বিবার স্ত্রী হেইলি ব্যাল্ডউইনের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন জীবনসঙ্গীর প্রতি তাঁর অনুভূতি। হেইলিও ইনস্টাগ্রামের এই পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি বিলীন হয়ে যেতাম।’

এভাবেই জাস্টিন বিবার আর হেইলি ব্যাল্ডউইন ভালোবাসায় মুড়ে কাটিয়ে দিলেন বিবাহিত জীবনের এক বসন্ত। ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একরকম পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন এই জুটি। কিন্তু পুরোপুরি ফাঁকি দিতে পারেননি মিডিয়ার চোখ। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার অফিসে আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন তাঁরা। পরে অবশ্য সংবাদ সম্মেলন করে স্বীকার করেছেন, ওই দিনই বিয়ে করেছেন তাঁরা।

প্রথম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে হেইলি ব্যাল্ডউইন ইনস্টাগ্রামে একটা ছবি শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা গেছে, লিফটের ভেতর ২৫ বছর বয়সী জাস্টিনের চিবুকে চুমু এঁকে দিচ্ছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘তোমার স্ত্রী হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো।’

আর কয়েক সপ্তাহ আগেই ‘পিপল ম্যাগাজিন’কে বিবারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবারও বিয়ে করবেন বিবার। আগেরটা তো রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছিলেন। তাই এবার ধর্মীয় রীতি, আনুষ্ঠানিকতা মেনে করবেন। আর বিয়ে উপলক্ষে দেবেন পার্টি। ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় এই অনুষ্ঠান হবে। প্লামেটো ব্লাফ মন্টেজে।

‘ভোগ অস্ট্রেলিয়া’র অক্টোবর মাসের কভারে দেখা যাবে তারকা মডেল হেইলি ব্যাল্ডউইনকে। ফটোশুটের কাজ সেরে প্রথম বিবাহবার্ষিকী আর দ্বিতীয় বিয়ের মাঝে ‘ভোগ অস্ট্রেলিয়া’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে বিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আর বিবাহিত জীবনের নানা কথা।

বিয়ের আগে হেইলি বলেছেন, বিয়ে নাকি কঠিন একটা ব্যাপার। এখনো তা-ই মনে হয়? ২২ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এখনো তা বিশ্বাস করি। তবে এটাও সত্যি, ভালো সম্পর্ক সবকিছুকে সহজ করে দেয়। আর আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিয়ের মতো একটা কঠিন ধারণাকে ক্রমেই সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

হেইলি আরও জানান, বিবার তাঁর জীবনের প্রথম প্রেম। এর আগে কখনো আরেকজন মানুষের সঙ্গে জীবন ভাগ করেননি। তাই শুরুতে মানিয়ে নিতে একটু আধটু অসুবিধা হয়নি, তা নয়। তবে এখন তাঁদের সম্পর্কে একটা ‘ছন্দ’ এসেছে। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো, মজা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। তাতে নাকি সম্পর্কের বাঁধন শক্ত হয়, ভালোবাসা গাঢ় হয়।

ছন্নছাড়া জাস্টিন বিবারের জীবনে শৃঙ্খলা আর স্বস্তি হয়ে আসেন হেইলি ব্যাল্ডউইন। অল্প বয়সে পাওয়া তারকাখ্যাতি তাঁকে ভুল পথে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন বিবার। ইনস্টাগ্রামে সেই সময়ের কথা লিখেছিলেন এভাবে, ‘১৯ বছর বয়সে আমি মারাত্মক সব মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ি। আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। আমি নারীদের সম্মান করতে পারতাম না। যারা আমাকে ভালোবাসত, একসময় তারা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আমি কেবল নিজের থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। মাদক আর ভুল সম্পর্কের ভেতর সমস্ত আশ্রয় খুঁজেছি।’

এরপর দীর্ঘদিন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে জাস্টিন বিবারের চিকিৎসা হয়েছে। আর সেই সঙ্গে চলেছে মানসিক চিকিৎসা। আর এই দুইয়ের সঙ্গে হেইলি তো ছিলেনই।

সেই সময় বিবারকে কাঁধ দিয়েছিলেন হেইলি। সব হতাশা আর বিষণ্নতা দুহাত ভরে গ্রহণ করে দিয়েছেন ভরসা, ভালোবাসা আর শক্তি। তাই ‘ভোগ অস্ট্রেলিয়া’র এই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘কেউ আমাদের সম্পর্কটা বাইরে থেকে বুঝত না। আমি প্রতিদিন এই মানুষটার সঙ্গে ঘুম থেকে জেগেছি। আমিই একমাত্র মানুষ যে প্রতিদিন ওর সঙ্গে কথা বলেছি। বাইরে থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার আর বিবারের সম্পর্ক নিয়ে অনেক উপদেশ দেওয়া হয়। ওরা কেবল আমাদের সম্পর্ক কঠিন করে তোলে। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক তো আমরাই সবচেয়ে ভালো বুঝি, তাই না?’

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন