২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

‘জানোয়ারের বাচ্চা, তোর বাপরে ভিসি বানাই দেব’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য ড. খন্দকার নাসির উদ্দিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোল নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রুমে ডেকে নিয়ে তিনি তাদের গালিগালাজ করেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

রুমে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিভ ফাঁ স হয়েছে যেটি সময় সংবাদের হাতে এসেছে। তবে অডিওতে হুম কি-ধমকি দেয়া ওই ব্যক্তি আসলেই ভিসি নাসির উদ্দিন কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অডিওতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীদের গালাগাল ও তাদের বাবা-মা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন তিনি।

কোন শিক্ষার্থী ফেসবুকে কি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভিসির পাশে বসে তা পড়ে শোনাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আশিকুজ্জামান ভূইয়া। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, তাদের কয়েকজনের বাবা-মাকে ডেকে আনা হয় এবং একসঙ্গ গালমন্দ করা হয়। যারা অডিও ক্লি পটি ভা ইরাল হয়েছ।

অডিও ক্লিপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নজনকে বলা কথাগুলো ছিলো মোটামুটি এমন, ‘এই তোর আব্বা কি করে? এই জানোয়ার তোর বাপ বিশ্ববিদ্যালয় চালায়? জানোয়ারের দল। তোর আব্বারে ভিসি বানায় দি (বানিয়ে দেই)। তোর বাপেরে চালাইতে ক। দেখি কি চালায় তোর আব্বা। কি আগুন জ্বালাবি এই জানোয়ার? এই, কী আগুন জ্বা লাবি, কেন জ্বালাবি, কোন কোন জায়গা জ্বালা য় আইছিস (এসেছিস)। তোরে তো এখন লাথি দিয়ে বের করে দিতে ইচ্ছা করতেছে। কোনোডারে ছাড়ব না। একটার চেয়ে আরেকটা বেশি। তোরা চালা তাইলে বিশ্ববিদ্যালয়। এদের কথা শুনলি (শুনলে) মরা মানুষ তাজা হয়ে যাবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই দিন বিভাগের সবাই গিয়েছিলাম ছয়জনের জন্য সুপারিশ করতে। কিন্তু ভিসি স্যার শুধু ওই ছয়জনকেই না পুরো বিভাগের সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।

তিনি সবাইকে ‘জানোয়ারের বাচ্চা, ক্লাসরুম দিয়ে তোদের শ্রাদ্ধ দেব, তোদের মতো কুলা ঙ্গার জন্ম দিয়ে তোদের বাপ মহা অন্যায় করছে, তোর কোন বাপরে আনবি নিয়ে আয়, তিনদিনের বাছুর নেতা হইতে আইছিস’- এমন সব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফেসবুকে লেখার জেরে ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর জিনিয়ার বহিষ্কারা দেশ প্রত্যাহার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন।

উপাচার্য বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জোর আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে তা রেজিস্ট্রার মো. নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি আদেশে প্রকাশ করে। ওই আদেশের ৪ নম্বরে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার করা হবে না।

আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান করা হবে না। যে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে এত কিছু, সে বিষয়ে আদেশের ১২ নম্বরে বলা হয়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শনিবার হামলা চালায় বহিরাগতরা। বহিরাগতদের হামলার আদেশ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে বলে অভিযোগ করেন সদ্য পদত্যাগ করা সহকারী প্রোক্টর মোঃ হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করছেন, যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন