২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

টুপি তৈরি করে ১৭ বছরে বদলে গেছে তাদের জীবন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হারুনুর রশিদ ও আনোয়ারা পারভীন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মাথাফাটা গ্রামে তাদের বসবাস। একদিন নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে টুপি তৈরি করতে শুরু করেন। সেই টুপি তৈরির কাজই তাদের সফলতা এনে দিয়েছে। গত ১৭ বছরে অনেকটাই বদলে গেছে তাদের জীবন।

২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে হারুনুর রশিদ ও আনোয়ারা পারভীনের টুপি তৈরির প্রতিষ্ঠান। তারা নাম রাখেন ‘আল ইকরা ক্যাপ ইন্ডাস্ট্রি’। শুরুর দিকে একটি দোচালা ঘরে দুটি মেশিন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন তারা। বর্তমানে ইটের তৈরি পাকা বাড়িতে কারখানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন ২২টি মেশিনে ৪০ জন নারী-পুরুষ কাজ করছেন।

আল ইকরা টুপি কারখানার উদ্যোক্তা হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিন টুপি তৈরি করে তাদের ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। টুপিতে কিছু হাতের কাজ করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। সেগুলো রাতের বেলা বাড়ি নিয়ে আলাদা সময় দিয়ে করা হয়। এতে মাসে যে পরিমাণ আয় হয়, তা দিয়ে তাদের সংসার বেশ ভালো ভাবেই কেটে যায়।

হারুনুর রশিদের স্ত্রী আনোয়ারা পারভীন জানান, কারখানায় প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৬০ পিস টুপি তৈরি হয়ে থাকে। টুপির মান, আকার ও প্রকারভেদে প্রতিটি ৬০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিমাসে এ টুপি বিক্রি হয় ৪-৫ লাখ টাকা। মজুরি, সুতা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে আয় থাকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মাথাফাটা গ্রামটি বর্তমানে ‘টুপি তৈরির গ্রাম’ নামে পরিচিত। শুধু হারুন ও আনোয়ারাই নন; অনেকেই এখানে টুপি তৈরি করে বিক্রি করেন। এ গ্রামেই ইকরার মতো একাধিক টুপির কারখানাও গড়ে উঠেছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাথাফাটা গ্রামের বিভিন্ন কারখানার তৈরি টুপি যশোর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে। পাইকারি ক্রেতারা এসব কারখানার টুপি বিদেশেও রফতানি করে থাকেন। এখানকার তৈরি টুপি এখন দেশ-বিদেশে সমাদৃত।

শ্রমিকরা বলেন, ‘মাথাফাটা গ্রামে কয়েকটি টুপির কারখানা রয়েছে। কারখানায় অনেক মানুষ কাজ করে। আমরা আল ইকরা কারখানায় কাজ করি। এখান থেকে আমরা ভালোই আয় করি। কারখানাগুলো থাকায় আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন