২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

রাজবাড়ীতে পাঁচদিনে পদ্মার ভাঙনে আতঙ্কে ৫০০ পরিবার!

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার পাঁচটি ইউপির ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পাঁচদিনে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পাশাপাশি ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে প্রায় ২০০ পরিবার। তাছাড়া প্রায় ৫০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্ক ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট হুমকিতে রয়েছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের পাশের ঢল্লাপাড়া, বেপারীপাড়া, হাতেম মেম্বরপাড়ায় আহাজারি দেখা গেছে। অনেক পরিবার দীর্ঘদিনের ঠিকানা থেকে সম্বল গুটিয়ে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী বলেন, এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ঠিক রাখতে পাউবোকে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীসহ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে জানাবো।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দেবোগ্রাম, দৌলতদিয়া, রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর, বরাট ও কালুখালীর রতনদিয়া ইউপির গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। প্লাবনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদীর তীর ভাঙন শুরু হয়েছে। পাঁচদিনে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ইউপির ঢল্লাপাড়া, বেপারীপাড়া, জলিল মণ্ডলপাড়া ও দেবোগ্রাম ইউপির কাওলজানি গ্রামের কয়েকশ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের শিকার দৌলতদিয়ার ঢল্লাপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম জানান, ওই এলাকায় তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমি ছিল। কয়েক বছরে পাঁচবার ভাঙনের পর প্রায় ২০ বিঘা জমি অবশিষ্ট ছিল। সম্প্রতি পাঁচদিনের ভাঙনে তাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যের জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৫০ হাজার টাকার খরচ করে টমেটো, বেগুন, ফুলকপিসহ নানা জাতের সবজির বীজ বপন করেন। সেগুলোও নদীগর্ভে চলে গেছে।

দৌলতদিয়ার বেপারীপাড়ার আ. ছাত্তার বেপারী জানান, কয়েক দিনে বেপারীপাড়া ও ঢল্লাপাড়ার ৭০টি, হাতেম মণ্ডলের পাড়ার ৫০টি ও দেবগ্রামের কাওয়ালজানি, মুন্সিপাড়া ১৬০টি পরিবারসহ প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

লঞ্চঘাটের পাশে থাকা মরিয়ম বিবি ও আ. খালেক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, লঞ্চঘাটের সামান্য দূরে কাওলজানিতে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে কখন যে ঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে ঘাট এলাকার সব বিলীন হয়ে যাবে।

দেবগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার বলেন, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে ইউপির অর্ধেকের বেশি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এ ইউপির প্রতি কারো কোনো নজর নেই। মানুষের হাহাকার দেখে স্থানীয় এমপিসহ প্রশাসনের কাছে বার বার গিয়েছি। আমাদের একটি চাওয়া, ত্রাণ নয়, নদী শাসন চাই। কিন্তু সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনো নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গোয়ালন্দের ইউএনও রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট হুমকির মুখে পড়বে।

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন