২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার

দুই একটা ছোট মাছ ধরে এই সরকারের রোগ সারানো সম্ভব নয়: রিজভী

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ক্যাসিনো কাণ্ডে অভিযান চালিয়ে নিজেদের নেতাকর্মীদের না ধরতে পেরে সরকার এখন সুর বদলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘রাজধানীতে গত ১৩ বছর যাবৎ ডজন ডজন ক্যাসিনো গড়েছে যুবলীগ ও তাদের গডফাদাররা। এই সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে দুর্বৃত্তরা টাকার কুমির হয়েছে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের চাঁদাবাজী ও দুর্নীতির বৃত্তান্ত শুনে দেশবাসী অত্যুগ্র বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। দুর্নীতির ইতিহাসে এ এক স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সেলিম প্রধান, খালেদ ভূঁইয়া, শামীম, ফিরোজরা সরকারে থাকা তাদের গডফাদারদের ইচ্ছাতেই টাকা পাচার করেছে। গডফাদার পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকেই তারা দীক্ষা পেয়েছে। দুর্নীতি, অনাচার, আর অনিয়মে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই একটা ছোট মাছ ধরে এই সরকারের রোগ সারানো সম্ভব নয়।’

যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার তথাকথিত অভিযান চালাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি গ্রেফতার করা হবে কি না, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তিনি বলেন, ক্যাসিনো সম্রাট সুবিধাভোগীদের তালিকায় মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিই আছেন। সরকার কথিত অভিযানের নামে মাঠে নেমে এখন না পারছে উঠে আসতে না পারছে রাঘব বোয়াল ধরতে।

এখন বিএনপি ও তারেক রহমানের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখন তাদের সুর বদলে গেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘কেবল সেলিম প্রধানই নয়, যাদেরকে এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে সবাই নাকি এক দশক আগে ছিলেন বিএনপির লোক। সেই সময় তারা কি করেছে সেই কেত্তন চলছে দলদাস মিডিয়াগুলোতে। গত ১২ বছর তারা যে আওয়ামী লীগের গডফাদারের মাধ্যমে হরিলুট করেছে তার কাহিনি কই? সেগুলো বলতে-লিখতে কি শরম করে?’

রিজভী বলেন, ‘এককালে সেলিম প্রধান মামুনের লোক ছিল। মামুনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর গত এক দশক ধরে সেলিম প্রধান কার সঙ্গে সংসার করে অনলাইন ক্যাসিনোর ডন হয়েছে তা-তো র‌্যাব বললো না। বর্তমানে সেলিম প্রধানের সঙ্গে কোন কোন নেতা ঘনিষ্ঠ তা কোনো গণমাধ্যমে দেখলাম না। কোন কোন নেতা তার গডফাদার তা তো বললেন না? সেলিমের আগের সংসারে কি হয়েছে তাই নিয়েই চলছে টানাটানি-যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।’

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘একটি পত্রিকা লিখেছে, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক সাত মন্ত্রী এবং ২৩ এমপিকে তিনি নিয়মিত টাকা দিতেন। তারা ছিল যুবলীগ নেতা শামীমের বিজনেস পার্টনার। আমাদের প্রশ্ন তারা কারা? নাম বলেন না কেন? তাদের এখনকার কথাবার্তায় মনে হচ্ছে পুরো দেশটাই ভরে গেছে তারেক রহমানে। দেশ থেকে ক্ষমতাসীনরা নাই হয়ে গেছে।’

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন